বাংলা | English    



আস্তে করে বললেন সুখবর



কহিনুর। ঝিনাইদহ জেলার বয়রা ইউনিয়নের একজন গৃহিনী। স্বামী দিনমজুর। কাজ করে যা উপার্জন করেন তাই দিয়ে চলে সংসার। অন্যদিকে কহিনুর বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করে। ডিম ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে যে বাড়তি আয়টুকু করেন, তা তুলে দেন স্বামীর হাতে। এভাবেই দু’জনের আয় যোগ করে সংসার এগোয়। সেভাবে কোনো সঞ্চয় করতে না পারলেও তাদের মোটা ভাত, মোটা কাপড়ে দিন কেটে যায়। কারও কাছে হাত পাতার প্রয়োজন হয় না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে পুরো পরিবার নিয়ে বাড়িতে বসে বসে দিন কাটাচ্ছেন কহিনুর ও তার স্বামী। প্রথম সপ্তাহ ঠিকমতো ভাতের জোগাড় করতে পারলেও এখন আর কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। এই অবস্থার মধ্যে কহিনুরের স্বামী বাইরে গিয়ে না পারছে কাজ করতে, না পারছেন মানুষের কাছে হাত পেতে চাইতে। রোজার মাসে তারা খুবই কষ্টে আছেন। ঠিকমতো না জুটছে সেহেরি, না জুটছে ইফতারি। বলা যায়, উপোস করেই কঠিন সিয়াম পালন করছেন। কখনও এরকম অবস্থায় পড়েননি বলে কী করবেন তা ভেবেই অস্থির।

হঠাৎ করে গ্রামীণফোন ও ব্র্যাকের কাছ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা খাদ্যভাতা হিসেবে পেয়ে অবাক হয়ে গেছেন কহিনুরসহ পুরো পরিবার। কহিনুর কান্নাজড়িত গলায় বললেন. রোজার মাসে এই টাকা পাওয়াটা তার জন্য অনেক বড় ঘটনা। তিনি যে কী পরিমাণ খুশি হয়েছেন, তা কোনোভাবেই বোঝাতে পারছিলেন না। এখন এই টাকা দিয়ে বাজার-সদাই কিনে চলতে পারবেন। বললেন, রোজার দিনগুলোতে অন্তত পেটে দানাপানি পড়বে।

Copyright ©BRAC 2020.